ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

নগরজুড়ে ভিক্ষুকের ঢল

  • আপলোড সময় : ০২-১২-২০২৪ ১২:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-১২-২০২৪ ১২:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন
নগরজুড়ে ভিক্ষুকের ঢল
* রাজধানীমুখী ভিক্ষুকের ঢল নিছক সামাজিক ব্যধি * ভিক্ষাবৃত্তিতেও আছে দুর্বৃত্তায়ন * রাজধানীতে যেকোনো স্পটে দাঁড়ালেই মুখোমুখি হতে হয় ভিক্ষুকের

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে রাজধানীতে ভিক্ষুকের ঢল নেমেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বয়সের ভারে ন্যুব্জ, বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রান্তিক নিম্নবিত্ত, নিম্ন আয়ের কর্মচারী, অসুস্থ শ্রমিক, শিশু ও বিধবারা। নগরীতে বিদ্যমান ভিক্ষুকের সঙ্গে নিত্য যুক্ত হচ্ছে ভিক্ষুকের নতুন কাফেলা। প্রতিবন্ধী, বয়োবৃদ্ধ, বিধবা, খোড়া, অঙ্গহীন, অসুস্থতাজনিত পেশাদার ভিক্ষুক তারা নয়। তাদের পুষ্টিহীন পঙ্গু অবয়বই বলে দেয় তারা দ্রব্যমূল্যের অসীম উল্লম্ফন, মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি, ক্রমবর্ধিষ্ণু বেকারত্বের বিপরীতে উন্নয়নদর্পী সরকার সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কট আর শোষণ-অভিঘাতের শিকার। জীবন ধারণে আবশ্যকীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাল্লায় পরাজিত মানুষ এরা। এককথায় বলতে গেলে পুরো রাজধানীতে যেন ভিক্ষুকের ঢল নেমেছে। পথ চলতে তারা মানুষের কাছে হাত পাতছে, গাড়ি থামলে জানালায় আঘাত করছে। ছোট বাচ্চা থেকে অতি বয়স্ক নারী-পুরুষ সব শ্রেণির ভিক্ষুকে ভরপুর এ শহর। তবে যানজটের শহরে এবার মনে হচ্ছে-ঢাকা ভিক্ষুকের শহর।
জানা গেছে, জিডিপি কিংবা মাথাপিছু গড় আয়, অর্থনৈতিক জটিল সমীকরণ তাদের কাছে দুর্বোধ্য। রাষ্ট্রযন্ত্র প্রচারিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে ফেলে রাজধানীমুখী ভিক্ষুকের এই ঢলকে নিছক ‘সামাজিক ব্যধি’ হিসেবে উড়িয়ে দেয়া যায় না। পথে-ঘাটে, কাঁচাবাজার, শপিংমল, রাজধানীর যেকোনো পাবলিক প্লেস, বাস, ট্রেন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফুটওভার ব্রিজ, ফলের দোকান, ট্রাফিক সিগন্যাল, মসজিদের প্রবেশদ্বার, অফিস, বাসাবাড়ি, পাড়া-মহল্লায় ভিক্ষুকদের উপস্থিতি বলে দেয় ভিক্ষাবৃত্তি বেড়েছে কতটা। রাজধানীতে এমন পথচারী কিংবা যানবাহন আরোহী নেই, যিনি দিনে কয়েকবার ভিক্ষুকের সামনে পড়েননি। তবে এই অবস্থাকে নেহায়েত ‘ভিক্ষুক সংক্রান্ত সামাজিক সঙ্কট’ বলতে নারাজ অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দেশে চলছে প্রচ্ছন্ন দুর্ভিক্ষ। যারা হাত পাততে পারছে, তারাই ভিক্ষা করছে। কিন্তু যারা ৮ থেকে ১৪ হাজার টাকা মাসে আয় করছেন, তারা হাত পাততে পারছেন না। বোবা কান্নায় গুমরে মরছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত রাজধানীতে ভিক্ষুকের উৎপাত বেড়েছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। জীবিকা নির্বাহের ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় ভিক্ষুকের খাতায় নাম লেখাচ্ছে অনেক কর্মক্ষম নিম্ন আয়ের মানুষ, যা নগরীর সামাজিক সঙ্কটকেই শুধু তীব্রতর করেনিÑদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকেও নির্দেশ করছে। ভিক্ষুকের সংখ্যা নিরুপণে হালনাগাদ সমন্বিত কোনো জরিপ নেই। সর্বশেষ ২০২১ সালে তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা আড়াই লাখ। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার জরিপ বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই রয়েছে ৩ লাখের বেশি পেশাদার ভিক্ষুক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, বিগত বছরগুলোতে করোনার প্রভাবে শহর থেকে গ্রামে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে বেকারত্ব। মানুষের হাতে কাজ নেই। এর সঙ্গে হালের দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন আর কোনো শুমারির মধ্যে নেই। কয়েক বছর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দেশে বেকারত্বের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি করা হলেও বর্তমানে এখন বেকারত্ব ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গার্মেন্টস শিল্পে রফতানি কমে গেছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্মহীন হয়ে পড়ছে দক্ষ শ্রমিকরাও। মাসে যারা ৮ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছে-তাদের মাঝে চলছে প্রচ্ছন্ন দুর্ভিক্ষ। এটিও ভিক্ষুক সৃষ্টি ও অপরাধীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে।
ভিক্ষাবৃত্তিতেও দুর্বৃত্তায়ন : নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যই শুধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে যায়নি। পেশাদার ভিক্ষুকদের ওপরও রয়েছে সিন্ডিকেটের থাবা। ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ ও নিরসনের পথে এই সিন্ডিকেটকে প্রধান বাধা মনে করছে সরকার। যে কারণে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের নামে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণ হয়নি। দুর্নীতি আর কর্মকৌশলে ঘাটতি থাকার ফলে ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বরং বাড়ছে। একবার যিনি ভিক্ষাবৃত্তিতে নাম লেখায় তাকে আর এ পেশা থেকে ফেরানো যায় না। সরকারি এমন দাবির সপক্ষে মিলেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেমনÑঅন্য সাধারণ পেশা থেকে ভিক্ষাবৃত্তিতে তুলনামূলক আয় বেশি। ভিক্ষাবৃত্তি ‘পেশা’ হিসেবে স্বীকৃত না হলেও এটির ধর্মীয় ও সামাজিক ভিত্তি বেশ মজবুত। এ পেশায় ঝুঁকি নেই। পুঁজিও লাগে না। আত্মমর্যাদাবোধ এবং সামাজিক লাজ-লজ্জা বিসর্জন দিয়ে হাত বাড়াতে পারলেই হাতে আসছে টাকা। দ্বিতীয়ত, হালের ভিক্ষাবৃত্তি চলে গেছে সিন্ডিকেটের হাতে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়ন্ত্রণ করছে ভিক্ষাবৃত্তি।
গ্রামাঞ্চল থেকে বিকলাঙ্গ, শিশু-কিশোরসহ হতদরিদ্র ও বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ রাজধানীতে এনে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগ করছে এ সিন্ডিকেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায়ই চলে এই সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটভুক্ত না হয়ে কেউ নির্বিঘ্নে ভিক্ষা করতে পারে না। সিন্ডিকেট অবুঝ শিশুদের কোলে নিয়ে, কখনও বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। এমনকি সুস্থ মানুষকেও কৃত্রিম উপায়ে প্রতিবন্ধিত্বের কবলে ফেলে চলে ভিক্ষাবৃত্তি। সরকারি হিসেবে ঢাকায় ভিক্ষুকের সংখ্যা ৫০ হাজার বলে দাবি করা হলেও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এ সংখ্যা ৩ লাখের বেশি। সারা দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা আড়াই লাখ দাবি করা হলেও এ সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে বেশ আগে। রাজধানীতে দৈনিক অন্তত ২০ কোটি টাকার ভিক্ষা-বাণিজ্য হয়। এ হিসাবে মাসে লেনদেন হয় ৬শ’ কোটি টাকা। বিপুল এই ‘অর্থনৈতিক লেনদেন’-এর খাত বন্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় মাত্র সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা। নগণ্য পরিমাণ এ অর্থ দেশের ভিক্ষাবৃদ্ধি বন্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রণে হাস্যকর বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
রাজধানীতে যেকোনো স্পটে দাঁড়ালেই মুখোমুখি হতে হয় ভিক্ষুকের: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ঢাকায় আসছে দরিদ্র মানুষের মিছিল। ঢাকার যেকোনো স্পটে দাঁড়ালেই মুখোমুখি হতে হয় ভিক্ষুকের। রিকশা, পাবলিক বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে মানুষ জ্যামে বসে টেনশন ভোগ করছে। দেখা যায়, পেছন থেকে কাপড় ধরে টানছে ভিক্ষুক। বাজারে সবজি, মাছ কিংবা ফলের দোকানের সামনে হয়তো কেউ দাঁড়ালো, আগেভাগেই হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে ভিক্ষুক। মানুষকে বিব্রত ও বিরক্তির চরম সীমানায় পৌঁছিয়ে হলেও ভিক্ষা চাই। রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষ হয়তো স্ট্রিট ফুড খাচ্ছে, মুহূর্তের মধ্যে মুখের সামনে চলে আসে ভিক্ষুকের হাত। কথিত ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ গুলশান, ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরার মতো এলাকায়ও কর্কশ কণ্ঠে চেঁচিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেখা যায়। ভিক্ষুকের উৎপাতে অতিষ্ঠ নগরবাসীর যেন ভিক্ষুক থেকে কোনো পরিত্রাণ নেই।
ভিক্ষুক ও ভিক্ষাদাতাদের সঙ্গে কথা বলে যা জানা গেল: আজিমপুর গোরস্থানের সামনে ভিক্ষা করেন মো. মোস্তফা (৫৬)। তার বাসা লালবাগের শহীদ নগরে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী রয়েছে। ভিক্ষা করেই তাদের সংসার চলে। একসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে গাড়ি চালাতেন। সড়ক দুঘর্টনায় তার একটা পা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান, এখানে প্রতিদিন বেশি ভিক্ষা পাওয়া যায়। তবে শবে বরাতের রাতে সবচেয়ে বেশি টাকা পায়। কিছুক্ষণ তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা গেল, একটি মেয়ে এসে তার কাছ থেকে দুইশ’ টাকা নিয়ে গেল। মেয়েটিকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মেয়ে, প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় আসে যা পাই ওর কাছে দিয়া দেই। একইসুরে কথা বলেছেন শরীয়তপুরের আবুল হাশেম (৭২)। তিনি থাকেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে। তিনি জানান, একটি দুর্ঘটনায় বছর চারেক আগে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। কোন উপায় না পেয়ে ঢাকায় এসে ভিক্ষায় নেমে পড়েন। ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার খোরশেদ আলম (৫১) বলে কেউ তাকে কাজ দেয় না। তাই সে ছোট বেলা থেকেই ভিক্ষা করে। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এদের ভবিষ্যতের জন্য তিনি বীমা করেছেন। অন্ধ ভিক্ষুক সোলেমান জানান, গ্রামে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে ভিটাবাড়ির জমি কিনেছেন। গোরস্থানে প্রভাবশালী ভিক্ষুক শাহনাজী ও তার মেয়ে রুবিনা এখানকার মহিলা ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ করে। তাদেরকে মাসোহারা দিয়ে অন্যান্য মহিলা ভিক্ষুকরা গোরস্থানে ভিক্ষা করে। গত ১৬ বছর যাবত রাজধানীর মুগদা-মাণ্ডা এলাকায় ভিক্ষা করেন পটুয়াখালী দশমিনা বাঁশবাড়ি ইউনিয়নের মোহাম্মদ মনি বেগম (৫৫)। তিনি জানান, ৮ বছর আগে স্বামী আলমগীর অসুস্থ হয়ে মারা যান। বর্তমানে তিনি শাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম মাদবর (১৭) মাদকাসক্ত। আর ছোট ছেলে মাহিম (৯) মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। বর্তমানে তিনি শনির আখড়া হাজী মসজিদ জহিরের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করে তার কিছু টাকা আসে। রাজধানীর মানিকনগর ও গোপীবাগে ভিক্ষা করেন ময়মনসিংহ জেলা সরিষাবাড়ী এলাকার মৃত ফয়েজ শেখ এর বড় ছেলে ওয়ামীউদ্দিন (৬২)। তিনি ৬ বছর যাবত রাজধানীতে বসবাস করছেন। থাকেন মাণ্ডা এলাকায়। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে আশরাফ (৩০) ইটাখোলা কাজ করেন। মেয়ে রাশেদা (২২) বিয়ে দিয়েছেন। ভিক্ষা করেই তার সংসার চলে। প্রতিদিন ভিক্ষা করে তার কিছু টাকা রোজগার হয়। রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া বাজার এলাকায় প্রতিদিন তিন শতাধিক ভিক্ষুক ভিক্ষা করতে আসেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধা অবধি তারা ভিক্ষাবৃত্তি করেন। অফিস-আদালতগ্রামী, পথচারি কিংবা বাজার করতে আসা ক্রেতাদের ঘিরে ধরেন ভিক্ষুকরা। তাদের অত্যাচারের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলে বলে জানান হাদিউল ইসলাম নামে একজন সবজি বিক্রেতা। এককথা জানান, বাজার করতে আসা মাহাবুব কীরন মানিক। তিনি জানান, ভিক্ষুকদের জন্য কোথাও দাঁড়িয়ে কথা বলাও মুশকিল। কিছুক্ষণ পর পর ভিক্ষার জন্য হাত পাতে, মানা করলেও শোনে না। নিউ মার্কেট এলাকায় কথা হয় তিন দশক আগে ভোলার স্বরাজগঞ্জ থেকে নদীভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে ঢাকায় আসা নূর হোসেনের সঙ্গে। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। তিনি জানালেন, ভাগ্যের সন্ধানে ঢাকায় এসে উঠেছিলেন কামরাঙ্গীচরে। একটি ওয়ার্কশপে কাজ করছিলেন। ২০১৭ সালের দিকে এক দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পর ভারী কাজ আর করতে পারেন না। টুকটাক ব্যবসা শুরু করলেও করোনাভাইরাস মহামারীতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর থেকে হকারি শুরু করেন, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে আর কুলাতে পারছেন না, তাই মাঝেমাঝে হাতও পাতছেন। নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাত তাবাসসুম। গত কিছুদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তারও মনে হয়েছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন সাহায্য চাইতে আসে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মহাখালীর গাউসুল আজম জামে মসজিদের সামনে অন্তত ৬০ জন ভিক্ষুককে দেখা যায়। মসজিদে আসা সবার কাছে তারা হাত পাতেন। একজনকে ভিক্ষা দেয়ার সময় অন্যরাও ছুটে এসে ঘিরে ধরেন। সাদেক আলী নামের এক ভিক্ষুক বললেন, না পাইরা হাত পাতি। বয়েস থাকতে রিশকা বাইতাম। অহন আর পারি না। আমারে দেখারও কেউ নাই। শুধু সাদেক আলী নয়, এরকম শত শত ভিক্ষুকের দেখা মেলে প্রাচ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ঢাকায়। এদের অভাব-অনটন যেন শেষ হবার নয়।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স